আচ্ছা পাড়ার ফুলচোরেরা কি এখনও আছে ?? এখন কি দল বেধে কিশোরেরা ফুল চুরি করে , পাড়ার ফুলবাগানওয়ালা বাড়ি থেকে, ভোররাতে শহীদমিনারের বেদীতে ফুল দেবে বলে ?? জানি না । জানা নেই । সেই মফস্বলের সেই স্মৃতিময় ২১ শে ফেব্রুয়ারী কি এখন তেমনি ??
আমার জীবনের দেড়যুগের কাছাকাছি সময় কেটেছে মফস্বলে । তারপর জীবনের তাগিদেই রাজধানীর বুকে ,রাজধানীতে আরো একটি মাথা বাড়াতে চলে আসা । দেখতে দেখতে এখানেও একযুগেরও বেশী সময় কেটে গেল । এখন ইচ্ছে হলেই শহীদ মিনারে যাওয়া যায় । একবারে আসল শহীদ মিনার । মফস্বলের ছোট শহীদ মিনার কিংবা প্রতি ২০ ফেব্রুয়ারী কয়েকটা ইট আর পাঠকাঠি দিয়ে শহীদমিনারের আদলে গড়ে তোলা শহীদ মিনার নয় ।কিন্তু শৈশবের সেই ২১ ফেব্রুয়ারীর মতো আর লাগে না । মানুষ বোধহয় এমনি হয় ।
২১ শে ফেব্রুয়ারী । আমার চোখে একটা অদ্ভুত ইমেজ এনেদেয় । খুব ।ভোররাতে, ঘরের অন্ধাকারে শুয়ে আছি আর ভেনটিলেটর গড়িয়ে ল্যাম্পপোস্টের মৃদু আলো আর বাইরে মাইক নিয়ে প্রভাতফেরী আর সমস্বরে গেয়ে চলছে "আমার ভাইয়েল রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী ....." আমি ও যাবো । কিন্তু মায়ের বারণ আর আমার বয়স এই দুই আমায় আটকে রাখে । আমার আর ভোররাতে যাওয়া হয়না । আমি যখন যাই তখন ২১ শে ফেব্রুয়ারী আর ২১ শে ফেব্রুয়ারী থাকে না । দিনের আলোয় ফুলশোভিত শহীদ মিনার আমার কাছে আর ২১ শে ফেব্রুয়ারী লাগে না ।
স্কুলে ভর্তি হলাম নার্সারীতে । ক্লাস ওয়ানে ওঠার পর প্রভাত ফেরীতে যাবার অনুমতি হলো কিন্তু সেই ৭টাতে আমার কাছে আর ২১ শে ফেব্রুয়ারীর মতো লাগে না । আমার স্মৃতিতে ২১ শে ফেব্রয়ারী মানেই একবারে রাতের আধারসহ ভোররাত, সাদা পজামা-পানাবী আর মেয়েরা সাদা শাড়িতে রিকশায় মাইক বেধে সমস্বরে গাইতে গাইতে চলা " আমার ভাইয়ের রক্তে........."
আমার ধারণা মফস্বলে খুব কম শিশুই আছে যারা শৈশবে ইটের পর ইট দিয়ে শহীদ মিনার বানাতে পারে না । আমি ব্যতিক্রম নই । ২০ ফে"বুয়ারী মানেই বাসায় ইটের পর ইট দিয়ে আর পাঠ কাঠি কিংবা এমন বিকল কিছু দিয়ে উপরের ইট দুটো আটকিয়ে শহীদ মিনার বানানো । আর সন্ধ্যের আগে আগেই প্রভাতফেরী শেষ করে ফুল দেয়া । আচ্ছা এখনও কি শিশুরা এভাবে শহীদ মিনার গড়ে ?
শব্দযুক্তঃ
ভাগাভাগি
- Attachments:
-
-
▶ এটার উত্তর দিন